তালের শাঁসের শরবত

তালের শাঁসের শরবত

তালের শাঁসের শরবত

চারদিকে যখন বিভিন্ন ফল ও খাবারে ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল ব্যবহারের ছড়াছড়ি, তখন কোনো ধরনের ফরমালিন বা কেমিক্যাল ছাড়া ফল খেতে চাইলে বেছে নিন তালের শাঁস। তালের শাঁস শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কদের পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। এটি কম সময়ের জন্য বাজারে পাওয়া যায়। কারণ এটি তালের কাঁচা অবস্থা।

প্রতি ১০০ গ্রাম তালের শাঁসে রয়েছে প্রায় ৭৭ গ্রাম পানি, ১ গ্রাম প্রোটিন, ০ গ্রাম ফ্যাট, ২১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০ গ্রাম ফাইবার, ৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৩৩ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ০.০৪ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.০২ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লাভিন, ০.০৩ মিলিগ্রাম নিয়াসিন, ৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

ভিটামিন ও খনিজ লবন সমৃদ্ধ তেলের শাঁস যারা ডায়েট ফলো করছেন বা ডায়াবেটিস এ ভুগছেন তাদের জন্য উত্তম ফল হলো তালের শাঁস।

গরমে প্রশান্তি দিতে শরবতের জুড়ি নেই। শরবত তৈরি করা যায় বিভিন্ন ধরনের ফল দিয়ে। এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তালের শাঁস। রসালো এই ফল দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু শরবত। বাড়িতে তালের শাঁসের শরবত তৈরি করে খেতে পারেন। সেজন্য তালের শাঁসের সঙ্গে প্রয়োজন হবে অল্পকিছু উপকরণের।

তালের শাঁসের শরবত

উপকরণঃ-

কচি তালের শাঁস- ২টি

পানি- ৪/৫ কাপ

লেবুর রস- ২ চা চামচ

চিনি – স্বাদ আনুযায়ী

বরফ কুচি- পরিমাণমতো।

প্রস্তুত প্রনালীঃ

কচি শাঁসের খোসা ছাড়িয়ে টুকরা করে নিন। এরপর ব্লেন্ডারে পানি ও তালের শাঁস ব্লেন্ড করে রস ছেকে নিন। একটি পাত্রে পানি, চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে রাখা তালের শাঁসের মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। গ্লাসে পরিমাণমতো বরফের টুকরা দিয়ে শরবত ঢেলে পরিবেশন করুন।

তালের শাঁসের শরবত

টিপসঃ

*অতিরিক্ত রোদে বা গরমে ত্বকে বিভিন্ন র‍্যাশ বা এলার্জি দেখা দিলে তালের শাসের খোসা লাগিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়।

*সানবার্ন থেকে মুক্তি পেতে তালের শাঁসের খোসা বা তালের শাঁসের প্যাক লাগালে ভালো কাজে দেয়।

*তালের শাঁসে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

*তালের শাঁসে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা আমাদের দাঁত ও দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে এবং দাঁতের ক্ষয়রোধ করে।

*পুষ্টিকর এই ফলে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগ্নেসিয়াম, আয়রন ও ফসফরাস যা হাড়কে শক্ত ও মজবুত করে।

*কচি তালের শাঁস রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

*তালের শাঁসে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি আমাদের শরীর থেকে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

*তালের শাঁস খেলে আমাদের শরীরে নাইট্রেটের পরিমাণ বেড়ে যায়। যা প্রাকৃতিক উপায়ে আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখে।

*তালের শাঁস লিভারেজনিত বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

*তালের শাঁসে আছে ভিটামিন বি ও সি যা বমি ভাব দূর করে ও আমাদের খাওয়ার রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।

*তালের শাঁসে আছে আয়রন যা মেয়েদের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। অ্যানেমিয়া রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

*এতে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগ্নেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, সেলেনিয়াম সহ অন্যান্য খনিজ উপাদান যা আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী।

*এর মধ্যে এমন কিছু উপাদান আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম।

*তাছাড়া তালের শাঁস স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও ক্লান্তি দূড় করতে সহায়ক।

*প্রেগনেন্ট মহিলাদের এই তালের শাঁস খেতে পরামর্শ দেয়া হয় কারন এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে।

এই গরমে বেশি তরল সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন, সুস্থ থাকুন।

Leave a Comment